আসুন জেনে নিই ভাইরাস কি??? সবাই দেখেন উপকার হবে।

সবাই কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আজকের টিউন।। কথা না বাড়িয়ে চলুন কাজের কথায় আসা যাক।

আমার কিছু ফ্রেন্ড আছে, চালায় নোকিয়া / চায়না ফোন। ফোন একটু ল্যাগ করলে বলে ফোনে ভাইরাস ঢুকছে। আরো এমন এমন লজিক দেখায় যে আমি চুপ হয়ে যাই। অনেকে আবার আনসাপোর্টেড ফাইল গুলোকেও ভাইরাস মনে করে :p

.

.

.

এখন আসি, ভাইরাস কি??

“VIRUS: Vital Information Resource Under Seized”

.

অর্থাৎ, কারো অসম্মতিতে তার ফাইলে এক্সেস নেওয়া।

.

.

প্রথমেই বলে রাখি, ভাইরাস হচ্ছে একধরনের প্রোগ্রাম ফাইল। এটিতে আগে থেকেই কিছু প্রোগ্রাম করে রাখা হয়। সব ডিভাইস এটি রান করতে সক্ষম না। উইন্ডোজ সাধারণত পোর্টেবল ফাইল এক্সিকিউট করে দেয়। অন্য কোন অপারেটিংএ এরকম হয় না। এর ফলে যা হয়, কোন ফাইলে সামান্য ক্লিকেই উইন্ডোজে ভাইরাস ঢুকে। আবার এমন ও হয় যে, অনেক সময় দেখা যায় এডোবি ফ্লাশ প্লেয়ার বা VLC প্লেয়ারে কিছু ত্রুটি থাকে। এগুলোর কোডেক এ ভালনারেবিলিটি থাকার কারনে মিডিয়া ফাইলে কোন কিছু প্রোগ্রাম করা থাকলে সেইটাও রান করে দেয়, ফলে কোন গান বা ভিডিও তে আগে থেকে কোন ব্যাড প্রোগাম করা থাকলে সেটাকেও সেই প্লেয়ার রান করে দেয়। ফলে ভাইরাস রান হয়ে যায় আর তার যা কাজ, সেইটা পালন করে।

.

.

অ্যান্ড্রোয়েড/ জাভা এই ফোন গুলোতে এরকম পোর্টেবল ফাইল রান করা যায় না। কিছুদিন আগে ইস্রাইলের একটা সিকিউরিটি রিসার্চার অ্যান্ড্রোয়েডে একটা বাগ পেয়েছিল, এটাতে অ্যান্ড্রোয়েডের একটা লাইব্রেরি ফাইল এফেক্টেড ছিলো যার ফলে MMS এর মাধ্যমে কোন ভিডিও তে ভাইরাস কোডিং করে পাঠালে MMS প্লেয়ার সেটাকে রান করে দেয়, ফলে ভাইরাস রান হয়ে যায়। অবশ্য গুগল এটার প্যাচ দিয়ে দিয়েছে।

.

.

এখন আসি ভাইরাস কেনো তৈরি করা হয়??

.

ভাইরাস সাধারণত হ্যাকাররাই তৈরি করে। অনেকে খাম-খেয়ালী করে করে, আর অনেকে নিজের কার্যসিদ্ধি করার জন্য করে। রিসেন্টলি র‍্যান্সমওয়্যার নামের একটা ভাইরাস এসেছে ( এটার আবার আপডেট ভার্সন ও আছে) । এটা এমন একটা ভাইরাস যেটা আপনার পিসি তে অ্যাটাক করার পর তার সার্ভারের সাথে কানেক্ট হয়ে আপনার পিসির সব কিছু এনক্রিপ্টেড করে টাকা চায়।

.

আচ্ছা, ভাইরাসের খুব সহজ একটা উদাহরন দেই। মনে করুন যে, আপনি চাচ্ছেন আপনার ফ্রেন্ড তার ফোনে কি কি কাজ করে, কোথায় কোথায় কল করে, এসএমএস দেয়, এগুলো জানতে। তো আপনি কি করলেন?? একটা স্পাইওয়ার ( একধরনের সফটওয়্যার যেটা তার আওব কিছুর লগ ফাইল আপনার ইমেইলে সেন্ড করবে) ইন্সটল করে দিলেন। আও কিছুই বুঝলো না। এর পর সে ডাটা অন করলেই তার ডিটেইলস আপনি পেয়ে যান।

অথবা, ব্যপার টা এমন যে, আপনার ফোনে আপনি এমন কিছু ইন্সটল করে রাখলেন যেটা দিয়ে আপনার ফোনে যাস্ট একটা এসএমএসের মাধ্যমেই ফরম্যাট করা যাবে। অর্থ্যাৎ রিমোট সিস্টেমে ফোন কন্ট্রোল। এটাই কিছুটা ভাইরাসের মতো, যেটা প্রোগ্রাম করা থাকে হ্যাকারের দ্বারা আর ইন্সটল করা থাকে ভিক্টিমের ফোনে। বাকি টা বুঝে নিন।

.

.

ভাইরাস কিভাবে ঢুকে আমাদের পিসি তে??

.

মনে করা যাক, আপনি একটা সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে গেলেন, অফিসিয়াল ভাবে ডাউনলোড করতে গেলে অনেক টাকা চায়, কিন্তু আপনি চাচ্ছেন টাকা বাদে, তো আপনি কি করলেন?? ক্রাক ভার্সন ডাউনলোড করলেন। একটা ভাইরাসের সাইজ মাত্র কয়েক কিলোবাইট হতে পারে। এটা সেই ক্রাক ফাইলের মধ্যে কোডিং করাও থাকতে পারে। ফলাফল?? ভাইরাস আপনার পিসি তে ঢুকে গেলো।

.

.

অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে কি ভাইরাস দূর করা সম্ভব?

.

অ্যান্টিভাইরাস কখনোই ১০০% ভাইরাস দূর করতে পারে না। যতই দিন যাবে ভাইরাস কোডিং ততই আপডেট হবে, অ্যান্টিভাইরাস ও আপডেট হবে। তবে, ট্রাস্টেড অ্যান্টিভাইরাস অনেক খানি সুবিধা দিতে পারে।

.

.

কোন কোন অপারেটিং সিস্টেমে ভাইরাস আক্রমন করে??

.

ভাইরাস কোডাররা সাধারণত যে অপারেটিং সিস্টেম বেশি ইউজ হয়, সেটার জন্যই ভাইরাস তৈরি করে। আর সাধারণত এক অপারেটিং সিস্টেমের ভাইরাস অন্য OS এ আক্রমন করতে পারে না যতক্ষন না হ্যাকার আলাদা ভাবে অন্য অপারেটিং এর জন্য ভাইরাস বানাবে, কারন ২ টা অপারেটিং এর কার্নেল আলাদা।

উইন্ডোজেই সাধারণত ভাইরাস আক্রমন বেশি হয় কারন এটা কোন ড্রাইভ এর ফাইল কে অটো রান করতে পারে। লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড এ ভাইরাস অ্যাটাক করতে হলে অবশ্যই ভাইরাস কে ইন্সটল হওয়া লাগবে। অবশ্য লিনাক্সের ভাইরাস খুব কম। আর সাধারণত ফোনে কখনোই ভাইরাস আক্রমন করে না।

সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে শেষ করছি আজকের টিউন।।

Leave a Reply

Skip to toolbar